অক্টোবার ২৪, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

শাবিপ্রবির হলে ধারাবাহিক রহস্যজনক কাপড় কর্তন

  • Views: 1430
  • Share:
অক্টোবার ২৪, ২০২৬ ১২:৫০ Asia/Dhaka

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক সৈয়দ মুজতবা আলী হলে রাতের আঁধারে একের পর এক শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত কাপড় কেটে নষ্ট করার রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীও ধরাছোঁয়ার বাহিরে। ফলে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা ও তীব্র ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে হলের শিক্ষার্থীদের শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্টসহ প্রায় ১৫টি কাপড় কেটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে শিক্ষার্থীরা বারান্দায় গিয়ে নিজেদের পোশাক এভাবে কাটা অবস্থায় দেখতে পান বলে জানিয়েছেন তারা।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, এর আগেও গত ২২ আগস্ট একই হলের তৃতীয় তলার বারান্দায় শুকানো ১০ থেকে ১২ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য কাপড় একইভাবে রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের আঁধারে হলের ভেতরে ঢুকে কে বা কারা এসব ঘটাচ্ছে-তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের আবাসিক  শিক্ষার্থী শাকারিয়া আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত আগস্ট মাসে আমাদের ব্লকের সবার কাপড় কেটে ফেলে রেখেছিল কেউ একজন। আজকেও আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাদের জামাকাপড় কেটে ফেলা হয়েছে। এটি আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি। যেই ব্যক্তি ধারাবাহিক এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে তার জন্য মানুষের ক্ষতি করা কোনো ব্যাপার না। তাই আমরা চাই দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।'

তবে এর আগেও এসব ভয়ঙ্কর কার্যক্রম করেও অপরাধী সনাক্ত না হওয়ার পেছনে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকাকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। এই ব্লকের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সিসি ক্যামেরা না থাকার কারণে আগেও অপরাধীকে সনাক্ত করা যায়নি। আগের ঘটনার প্রায় দুই মাস হয়ে গেছে তাও এখানে কোনো সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। এটা স্পষ্ট প্রশাসনিক গাফিলতি। প্রশাসনের এরকম উদাসীনতা শিক্ষার্থীদের জন্য জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।"

তারা আরও বলেন, "গত দুইমাস আগেও কাটা হইছে আজকেও কাপড় কাটা হয়েছে। আমরা এসব কাপড়ের ক্ষতিপূরণ চাই।"

পাশাপাশি হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।


এ বিষয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাকে কিছুক্ষণ আগে এ বিষয়ে অবগত করেছেন। আমি এখন যাচ্ছি ঘটনাস্থলে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান বলেন, 'এ ঘটনায় প্রভোস্ট ভালো বলতে পারবে। প্রভোস্ট আমাদেরকে জানালে তারপর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

 

user
user
Ad
Ad