অক্টোবার ২৪, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভুলে সংশোধনের মুখে মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো ২০ লাখ বই

  • Views: 1428
  • Share:
অক্টোবার ২৪, ২০২৬ ০৮:৪৯ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক: ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ের একটি প্রতীকের ভুলে সংশোধনের মুখে পড়েছে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ২০ লাখ কপি। বইটির ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় ছাপার কাজ বন্ধ রেখে মাঠপর্যায়ে পাঠানো বই সংগ্রহ করে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। এতে বাড়তি ব্যয় ও সময়ের চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে প্রজ্ঞা স্তরের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ থাকার বিষয়টি গ্রাফিক ডিজাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের ত্রুটি বলে দাবি এনসিটিবির।  এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, উইজডমের বাংলা শব্দার্থ ‘বুদ্ধি’ হয় না। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এবং ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও উইজডমের বাংলা শব্দার্থ ‘বুদ্ধি’ লেখা হয়ে এসেছে। তাই  আমাদের পরিমার্জন কমিটি  সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ২০২৭ সালে বাংলায় ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লেখা হবে।  গ্রাফিক্স ডিজাইনাররাও ‍‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লিখেছে। কিন্তু প্রতীকটি পরিবর্তন করে দিয়েছে। অথচ পরিমার্জন কমিটির সুপারিশ ছিল শুধু বাংলায় ‘প্রজ্ঞা’ শব্দটি সংশোধন করা, প্রতীক পরিবর্তন করা নয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রাফিক ডিজাইনাররা সম্ভবত গুগলে ছবি খুঁজতে গিয়ে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ব্যবহৃত প্রতীকটি পেয়েছেন। সে কারণে তাঁরা পুরোনো ছবিটি ব্যবহার করেছেন। তারা বিষয়টির গভীরতা বুঝতে পারেন নি হয়তো।

এদিকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এই স্তরে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক কিভাবে যুক্ত হলো তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তো চলতি বছরের ২০ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে জানা নেই।

জানা গেছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকারের চালু করা নতুন শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে দেয়। ২০১২ সালের পুরোনো শিক্ষাক্রমেও ফিরে যায়। যেহেতু পট পরিবর্তন ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে। সুতরাং সে সময় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ কপি ছাপাশেষে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়ে গেছে। সেগুলো সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হবে। ফলে এটি একটি বড় ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রতীক পরিবর্তনের জন্য বই ফেরত আনা, সংশোধন করা এবং পুনরায় বিতরণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিবহন, শ্রম ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় হতে পারে।

এনসিটিবির সদস্য আবু নাসের টুকু বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে  দাঁড়িপাল্লার প্রতীক যুক্ত হয়েছে। বিষয়টি জানার পর মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বই ফিরিয়ে এনে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫  থেকে ২০ লাখের মতো বই মাঠ পর্যায়ে চলে গেছে। সেগুলো আমরা ফেরত আনছি। এরপর সংশোধন করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ব্যয়ের বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে।

এদিকে মুদ্রণমালিকদের ভাষ্য, এতগুলো বইয়ের ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ শেষ হওয়ার এ পর্যায়ে বই ফেরত এনে সংশোধন করতে হলে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় মোট কত টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে সেটিও জানা যায়নি।

user
user
Ad
Ad