নয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও বড়, নির্ভুল, ধ্বংসাত্মক, গতিশীল ও অপ্রতিরোধ্য
- স্বীকার করল ইসরায়েলি-মার্কিন জোট
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:: রমজান যুদ্ধের পর বিভিন্ন সূত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দ্রুত উন্নয়নের খবর প্রকাশিত হয়। দুই মাস পর পরিচালিত “নাসর” অভিযানে তেহরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতার উন্নতি প্রদর্শনের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়।
ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও ধ্বংসাত্মক, দ্রুত-গতির, বড় ও অপ্রতিরোধ্য। এদিকে একজন মার্কিন বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেছেন যে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো “প্রতিরোধ বা ভূপাতিত করা অসম্ভব”।
গত ৮ জুন সন্ধ্যায় শুরু হয়ে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান ইসরায়েল-অধিকৃত ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই অনন্য অভিযান শুধু আগাম হামলা হওয়ার কারণেই নয়, একইসঙ্গে স্বল্প সময়ে ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক আঘাত হানার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন বিভাগের সাবেক উপদেষ্টা এবং এমআইটির অধ্যাপক থিওডর পোস্টল ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো “প্রত্যাশার তুলনায় আরও বেশি নির্ভুল ও ধ্বংসাত্মক” হয়ে উঠেছে।
পোস্টল বলেন, “ইরানিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা অসাধারণভাবে উন্নত হয়েছে। আমি প্রথমে যা দেখেছিলাম, এমনকি ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধেও (১২ দিনের যুদ্ধ) যা দেখেছিলাম, তার চেয়েও এগুলো অনেক বেশি কার্যকর। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে।”
হিব্রু ও পশ্চিমা সূত্রে দাবির সমর্থন
এই মার্কিন বিশেষজ্ঞের দাবি আরও গুরুত্ব পায়, যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্র ১২ ঘণ্টার ক্ষয়ক্ষতির কিছু তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর অধিকৃত ভূখণ্ডে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
হিব্রু দৈনিক ইসরায়েল হাইয়োম জানায়, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের হামলায় অধিকৃত ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
একই সময়ে সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র “কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি”। যদিও এই নিষ্ক্রিয়তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হতে পারে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে অক্ষমতা।
নাসর অভিযানে ইরান তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ছিল ৩০টির কিছু বেশি, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
অজানা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি
প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত উচ্চ গতিতে তাদের লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এর কিছুক্ষণ পর একটি অবহিত সামরিক সূত্র জানায়, অধিকৃত ভূখণ্ডের উত্তরে হামলায় ইরান “খেইবারশেকান” ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বশেষ প্রজন্ম ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে ডাইভ দেওয়ার সময় প্রায় ৯ মাখ গতিতে পৌঁছায় এবং থাড (THAAD) ও অ্যারো (Arrow)-এর মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটিকে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
চলতি বছরের অরদিবেহেশ্ত মাসে তথা এপ্রিল-মে মাসে (২১ এপ্রিল-২১ মে) যুদ্ধবিরতির কিছুদিন পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ বিভাগের কমান্ডার জেনারেল মুসাভি জানান যে যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম পুনরায় সক্রিয় করা এবং হালনাগাদের গতি বেড়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি কমান্ডারের উপদেষ্টা জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি “অরদিবেহেশ্ত মাসে (২১ এপ্রিল-২১ মে) তৈরি” নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের কথাও উল্লেখ করেন।
যদিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি যে নাসর অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়েছিল কি না, তবে এগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এমন ছিল যে অধিকৃত ভূখণ্ডে তা এক ধরনের ধাক্কার সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষার “বোকামিপূর্ণ” চেষ্টা
অধিকৃত ভূখণ্ডের উত্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর এবং ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট আহত ইসরায়েলির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯,১২০ জনে পৌঁছেছে।
এছাড়া ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করেই জানায় যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জন নতুন আহতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
আহতের সংখ্যা রহস্যজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া, ইসরায়েল হাইয়োমের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির স্বীকারোক্তি এবং পরবর্তীতে টেল নোফ ও নেভাতিম ঘাঁটির কিছু অংশে ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ— এ সবকিছুই ইঙ্গিত দেয় যে নাসর অভিযানে ব্যবহৃত দ্রুতগতির ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছে।
থিওডর পোস্টলও জোর দিয়ে বলেন:
“এসব (নতুন ইরানি) ক্ষেপণাস্ত্র কোনোভাবেই প্রতিহত করা সম্ভব নয়। এগুলো আরও বড় এবং অধিক ধ্বংসাত্মক ওয়ারহেড বহন করে।”
তবে এই মার্কিন বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক হলো, তিনি নিজে ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলছেন তা নিশ্চিতভাবে না জানলেও, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচেষ্টাকে “বোকামিপূর্ণ” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তার ভাষায়: “এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর বাস্তবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার মতো কোনো উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা নেই।”
- নয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও বড়, নির্ভুল, ধ্বংসাত্মক, গতিশীল ও অপ্রতিরোধ্য
- আমাদের প্রিয় আজাদ উদ্দিন : একজন আলোকিত মানুষের স্মৃতিচারণ
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে উত্তীর্ণদের ভাইভা দ্রুত শুরুর দাবি
- ইসরায়েলের ওপর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর আহ্বান জানাল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
- জাতীয় বাজেট ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা খাতের ভারসাম্যপূর্ণ অগ্রাধিকারে নজর কেন জরুরি?
- কানাইঘাট সরকারি কলেজের অধ্যাপক আজাদ আর নেই
- খালি বাসায় বুয়েট শিক্ষকের মায়ের পচনধরা মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ
- ব্যাংককে ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায পেলেন কানাইঘাটের জয় দাস
- আজ পবিত্র ঈদুল আজহা
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কুরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
- এক কলেজ থেকে মেডিকেলে চান্স পেলেন ৪৫ শিক্ষার্থী
- ইমাম, খতিব ও শিক্ষকদের জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণি ঘোষণার দাবি
- যে শর্ত না মানলে বেতন পাবেন না প্রাথমিকের শিক্ষক-কর্মকর্তারা
- স্যাটায়ার, মিম ও কার্টুনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল
- ৫ দাবিতে ইডেন ছাত্রীদের মানববন্ধন
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ইস্যুতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি
- শিক্ষক নেতা আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত, মন্ত্রণালয় ও ডিআইএর সর্বশেষ মনোভাব
- সায়েন্সল্যাব অবরোধ ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের
- শেষ হলো কুবির পঞ্চম ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন


MS3 Technology BD