টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন মামুনুল হক
টিবিসি ডেস্ক: টঙ্গীর মাদ্রাসার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, নিরপরাধ কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে দেশের ধর্মীয় অঙ্গনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক বিভাজনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ‘টঙ্গীর ঘটনা, ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গন নিয়ে কিছু কথা’ শীর্ষক এক স্ট্যাটাসে এসব বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত টঙ্গী মাদ্রাসার অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা আমার কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক মনে হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই।
১. অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি ও প্রমাণের মানদণ্ড
ইসলামসহ যেকোনো গ্রহণযোগ্য নৈতিক ও আইনগত ব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলো—গুরু অপরাধের গুরু শাস্তি, লঘু অপরাধের লঘু শাস্তি। গুরু অপরাধের লঘু শাস্তি যেমন ইনসাফ নয়, তেমনি লঘু অপরাধের গুরু শাস্তিও ন্যায়সংগত নয়। ইসলামে ব্যভিচারসহ গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মানুষের ইজ্জত হরণ ও ধর্ষণের মতো অপরাধও অত্যন্ত গুরুতর। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
কিন্তু এখানে আরেকটি সমান গুরুত্বপূর্ণ নীতি রয়েছে। অপরাধ যত গুরুতর, তা প্রমাণের ক্ষেত্রেও তত বেশি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজন। সন্দেহ, অনুমান কিংবা দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। গুরুতর অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই শাস্তি দেওয়াও যথার্থ হতে পারে না।
অভিযোগ উত্থাপন করাই যথেষ্ট নয়; শরিয়তনির্ধারিত প্রমাণের শর্ত পূরণ করাও অপরিহার্য। অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, শরিয়তের নির্দিষ্ট শর্তে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে। অতএব, নীতিটি পরিষ্কার: শক্তিশালী প্রমাণে গুরুতর অপরাধ সাব্যস্ত হলে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার দায় নিতে হবে। এই দুই নীতির সমন্বয়ই ন্যায়বিচারের ভিত্তি।
২. শিশুর মনস্তত্ত্ব ও অভিযোগ যাচাইয়ের গুরুত্ব
আরেকটি বিষয় আমি এখানে উত্থাপন করতে চাই। বিষয়টি হলো শিশুর মনস্তত্ত্ব। শিশুদের মনে কত রকম কাল্পনিক, এমনকি ভয়ংকর পরিকল্পনা ও চিন্তা কাজ করে, তা অনেক সময় পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে কল্পনা করাও কঠিন।
আমার মনে আছে, আমরা যখন শিশুকালে হিফজ মাদ্রাসায় পড়তাম, তখন হিফজ পড়াটা অনেক কঠিন ছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর যথেষ্ট চাপ যেত। এ জন্য আমাদের সময়ে হিফজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষকদের ব্যাপারে সব সময় একটা নেতিবাচক মনোভাব কাজ করত। তখন আমার মনে আছে, আমাদের সঙ্গে পাড়ার কয়েকজন চঞ্চল ছেলেও পড়াশোনা করত। আমাদের উস্তাদ ছিলেন অন্ধ হাফেজ সাহেব। আমাদের সেই ছোট্ট সাত-আট বছর বয়সের কথা আজও আমার স্পষ্ট মনে আছে। কয়েকটি চঞ্চল ছেলে পরিকল্পনা করত, হুজুরকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলা যায় কি না। কী ভয়ংকর চিন্তা! এটা আমাদের সময়ের কথা বললাম।
অতিসম্প্রতি আমাদের শিক্ষকতার সময়কালে এমন বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনার খবর আমার জানা আছে। আমি এমন একটি ছেলের কথা জানি, যে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ভয়ংকর নাটক সাজিয়েছিল। সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। বেশ কয়েক দিন নিরুদ্দেশ থাকার পর বাড়িতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর নাটকের চিত্রনাট্য সাজিয়ে বসেছিল। বলেছিল, তাকে নাকি একটি অপহরণকারী দল অপহরণ করে ট্রাকে করে সীমান্তের কোনো এলাকায় পাচার করে দিচ্ছিল। সেখান থেকে সে অতিমানবীয় কায়দায় সিনেমার নায়কের মতো পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছে। সেই অবস্থা থেকে বাড়িতে ফেরার পর তার বাবা-মা তাকে নিয়ে কী যে আদর-যত্ন করেছিলেন! অথচ পরে জানতে পেরেছি, পুরো ঘটনাটাই ছিল ভুয়া। মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে ভালো সাজতে সে এই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিল। তার বাবা-মাও বিষয়টি সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করেছিলেন।
আমার দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের কথা জানি। একটি ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ত। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় তার মাথায় এক ভয়ংকর ভূত চাপল। সে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়বে না; অন্য ধারায় পড়াশোনা করবে। ছেলেটির বাবা ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ছেলে নিরুদ্দেশ হওয়ার পর তার বাবা গোটা প্রশাসনকে তোলপাড় করে ফেলেছিলেন। সারা দেশে প্রশাসনিক রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছিল, ছেলেটি নিজেই এমন একটি ঘটনার অবতারণা করেছে। এরপর একটি সুন্দর নাটক সাজিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছিল।
আমাদের সুপরিচিত বন্ধুবর মুহতারাম মাওলানা হাসান জামিল সাহেবের এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত দারুল উলুম রহমানিয়া মাদ্রাসায় এমন এক ভয়ংকর ঘটনার কথা আমরা জানি। একটি ছোট্ট শিশু মাদ্রাসা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য রাতে বহুতল ভবনের জেনারেটর সার্ভিসে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতি যতটা ভয়াবহ হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি। কিন্তু ঘটনাটি সবার পিলে চমকে দিয়েছিল।
এই সব ঘটনা থেকে একটি অভিন্ন উপসংহার বেরিয়ে আসে। শিশুরা নিষ্পাপ, সন্দেহ নেই। কারণ আল্লাহ তাদের পাপ গণনা করেন না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে শিশুরা কখনো বিপজ্জনক চিন্তা করে না। বরং শিশুরা ছোট্ট একটি বিষয়কে মাথায় নিয়ে ভয়াবহ রকমের তাণ্ডব ঘটিয়ে দিতে পারে। এমন আরও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে।
শিশুরা অনেক সময় নিজেদের ছোট্ট ভুল আড়াল করার জন্য অনেক বড় ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলতে পারে। শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করলে এই বিষয়গুলো দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
৩. টঙ্গীর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
আলোচিত ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষাবলম্বন না করে আমি যে কথা বলতে চাই, তা হলো, মাদ্রাসার শিক্ষকের বিষয়ে যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা অবশ্যই গুরুতর। সুতরাং নীতির আলোকে গুরুতর অপরাধের জন্য তার গুরুতর শাস্তি হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবে শুধু এই একটি নীতির কথা স্মরণে রেখে অপর নীতির কথা ভুলে গেলে নির্ঘাত বড় ধরনের ভুল হবে। সেই নীতিটি হলো, অভিযোগ যত গুরুতর, প্রমাণও চাই তত শক্তিশালী। সন্দেহ-সংশয়ের ওপর ভিত্তি করে গুরুতর কোনো অভিযোগ সাব্যস্ত করা কখনোই যথার্থ হতে পারে না। আর কঠিন শাস্তি প্রয়োগের বৈধতার প্রশ্ন তো সেখানে আসেই না।
বহু বাবা-মা এমন, যাদের কাছে তাদের শিশু সন্তানদের সব অভিযোগই নিশ্চিতভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। স্বাভাবিকভাবেই সন্তান যখন ভুক্তভোগী, তখন বাবা-মা সর্বোচ্চ রাগান্বিত, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। আর যেকোনো বিচারের মৌলিক নীতি হলো, ক্রুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বিচার করতে পারবেন না। তিনি বিচার করলে সেই বিচার ন্যায়নিষ্ঠ হওয়া সম্ভব নয়। বিচারককে হতে হয় নির্মোহ, শান্ত এবং যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত। অভিযোগকারী পিতা নিজেই যদি অভিযুক্তের শাস্তি নিজের হাতে তুলে নেন, সে ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন হওয়া অবধারিত।
৪. মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
পরিস্থিতি আমার কাছে খুবই বিপজ্জনক মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে, নিঃসন্দেহে সেগুলো অত্যন্ত গর্হিত অপরাধের অভিযোগ। এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই এবং অবশ্যই কঠোর হতে হবে। তবে আমার কাছে যে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার, সেটি হলো, হঠাৎ করে গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমের কল্যাণে আলোচনায় আসছে।
এখানে সরল প্রশ্ন হলো—গত ছয় মাস ধরে এই ঘটনাগুলো ব্যাপক হারে ঘটছে, নাকি আগে থেকেই ঘটছিল? আমার সরল ও স্বাভাবিক মন্তব্য হলো, গত ছয় মাসে এ ধরনের ঘটনা অতিমাত্রায় সংঘটিত হওয়ার কোনো কারণ নেই!
আবাসিক যেকোনো ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা রয়েছে, এটা অনস্বীকার্য। আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতেও এ ধরনের অপরাধ হয়। কোনো কালেই মাদ্রাসাগুলো শতভাগ অপরাধমুক্ত ছিল—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। স্বাভাবিকভাবেই মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসায় এ ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটে। ব্যাপারটি আগে যেমন ঘটত, বিগত ছয় মাসেও তেমন হারেই ঘটেছে। কিন্তু বিগত ছয় মাস ধরে এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনা যেহেতু আগের তুলনায় অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়নি এবং বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো কারণ নেই, সুতরাং আগে গণমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা না থাকলেও হঠাৎ করে গত ছয় মাস ধরে এই আলোচনা তুঙ্গে ওঠার মাজেজাটা কী? নিঃসন্দেহে এটি একটি গুরুতর বিপজ্জনক আলামত! আমার কাছে মনে হচ্ছে, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশকে একটি নতুন সংকটের মুখে ফেলার জন্য এ ধরনের বিষয়গুলোকে কৃত্রিম উপায়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সর্বশেষ টঙ্গীর ঘটনায় দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে সমাজকে স্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত করে মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত করিয়ে দেওয়ার এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়েছে।
৫. সমন্বিত উদ্যোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, দেশের আলেম সমাজ, ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং দেশপ্রেমিক সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একযোগে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে অনিবার্য সংঘাতের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে সব মাদ্রাসায় শিশুশিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং শিশু নিপীড়নের যেকোনো অভিযোগ দ্রুত আমলে নিয়ে বিহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৬. আবারও তৎপর হলুদ গণমাধ্যম
চিহ্নিত গণমাধ্যম সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবার সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে, ফ্যাসিবাদী আমলের সবচেয়ে বড় অত্যাচারের হাতিয়ার ফ্যাসিবাদী গণমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে আবার তৎপর হয়ে উঠছে। তারা সমন্বিত ও সংঘবদ্ধ সংবাদ পরিবেশন এবং তথ্যসন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় অঙ্গনের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কাজেই এই সময়ে প্রতিটি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গনে একদিকে যেমন সুরক্ষাব্যবস্থা কঠোর করা প্রয়োজন, তেমনি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে দানা বাঁধতে থাকা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারেও সবার সজাগ থাকা প্রয়োজন।
ভয়াবহ আরেকটি বিপদের দিক হলো, অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেসব আইডি থেকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রচারণা চালানো হতো, সেসব আইডির শতভাগই এসব বিষয়ে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসাশিক্ষার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। তাদের তালে তালে বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্টরাও ব্যাপকভাবে এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগপন্থীদের সুরে সুর মেলাচ্ছেন। অর্থাৎ সমীকরণ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মাঠপর্যায়ে এক ধরনের অলিখিত ঐক্যে পৌঁছে যাচ্ছে। ঘটনাটি এমন হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিবেশ এবং আগামীর বাংলাদেশের জন্য তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। এটি দেশ ও স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার লক্ষণ।
৭. রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব
এখানে রাজনীতির খেলা হচ্ছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ইসলামপন্থী যেসব সংগঠন সরকারদলের সঙ্গে জোটবদ্ধ আছে, তাদের উচিত এ বিষয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া। আমি জানি না, টঙ্গীর ঘটনায় সরকারসংশ্লিষ্টরা কীভাবে মাদ্রাসার শিক্ষকের ওপর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার তৎপরতাকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং পক্ষপাতিত্ব করার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। বিষয়টি যদি সরকারের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও তাদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি।
৮. প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অঙ্গনের সব ধরনের বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা দরকার। অন্যথায় এর মাশুল সবাইকেই গুনতে হবে।
শেষ কথা হলো— শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে, প্রকৃত অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরপরাধ কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বা রাজনৈতিক বিভাজনের চেষ্টা রোধ করতে হবে। ন্যায়বিচার, শিশুর সুরক্ষা ও জাতীয় ঐক্য—এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে হবে। অন্যথায় পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাতের যে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, স্বাধীনতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
- সৌদিতে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বিশেষ পাসপোর্ট দিচ্ছে বাংলাদেশ
- টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন মামুনুল হক
- চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
- ৫ দফা দাবিতে সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ
- প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি বাধা নেই
- আমরণ অনশনে নার্সিং কলেজের ৩ শিক্ষার্থী
- একাদশে ভর্তির শেষ ধাপের আবেদন শুরু কাল
- পাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তিএনসিটিবির
- চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার পাঠ্যবই, অনুমোদন এনসিসিসির
- বদলির ফল প্রকাশের দাবিতে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
- দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভুলে সংশোধনের মুখে মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো ২০ লাখ বই
- বাড়ছে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার
- এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে যা জানাল আন্তশিক্ষা বোর্ড
- সাস্টিয়ানদের মৃত্যুর বছর ২০২৬: দশ মাসে ৭ শিক্ষার্থী হারাল শাবিপ্রবি
- সৌদির সব বিমানবন্দরে হামলার হুঁশিয়ারি হুথিদের
- সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে বিকেলে
- জুলাই শহীদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে হত্যা
- শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী


MS3 Technology BD