অক্টোবার ২৬, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

বদলির ফল প্রকাশের দাবিতে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

  • Views: 2530
  • Share:
অক্টোবার ২৫, ২০২৬ ২২:১১ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক: বদলির ফল প্রকাশের দাবিতে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

বদলির দাবিতে আন্দোলনরত তিনটি শিক্ষক সংগঠনের একাধিক শিক্ষক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বদলির ফল প্রকাশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সংগঠনগুলোর। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলির ফল প্রকাশে কোনো অগ্রগতি না হলে ৪ নভেম্বর বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করবেন তারা। 

শিক্ষক নেতাদের মতে, স্কুল-কলেজে প্রায় দেড় মাস আগে বদলি আবেদন নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঢাকায় এসে হার্ড কপিতে আবেদন দিয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরও আবেদনগ্রহণ করেছে। তবুও তিন অধিদপ্তরের একটিও ফল প্রকাশের বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ভূমিকা রাখছে না। এ অবস্থায় আন্দোলনের মাধ্যমেই নিজেদের অধিকার আদায় করবেন তারা।

এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের দাবিতে আগামী ৪ নভেম্বর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রথমে মাদ্রাসা অধিদপ্তর এবং পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে কর্মসূচি পালন করা হবে।’

উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হয়েছে গত ১৩ সেপ্টেম্বর। আবেদন শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস হতে চললেও এখনো ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে শিক্ষামন্ত্রীর অসন্তোষ এবং একাধিক জটিলতার বিষয় সামনে এসেছে।

জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল না প্রকাশ করার নেপথ্যে সফটওয়্যার সংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই। জটিলতা তৈরি হয়েছে ঢাকা বদলি হতে চাওয়া শিক্ষকদের কারণে। এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষক ঢাকায় বদলি হয়ে আসতে চাচ্ছেন। তাদের পক্ষে বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তদবির করছেন। অধিকাংশ শিক্ষককে ঢাকায় বদলি করা হলে কাকে কোন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে সেটি নিয়েও তদবির চলছে।

সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের একটি অংশ বদলি আবেদন বাতিল করতে চায়। এজন্য তারা ডিলেট অপশন চালুর দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। এই আবেদনের বিষয়গুলো ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অবহিত করেছেন। যার বলে শিক্ষামন্ত্রী অনেকটাই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষকদের আরেকটি পক্ষ বদলি আবেদনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ করা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা দেখিয়ে আবেদন এডিট করতে চাচ্ছেন। এজন্যও পৃথকভাবে আবেদন জমা পড়েছে। 

বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের আরেকটি পক্ষ শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই মুহূর্তে বদলি হতে চাচ্ছেন না। এজন্য তারা জোর তদবির চালাচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, অনেকের স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা হচ্ছে না, এজন্য তারাও বদলির সুযোগ চাচ্ছেন না। বর্তমান কর্মস্থলেই থাকার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তারা। শিক্ষকদের একাধিক আবেদন, তদবির এবং চাপের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এজন্য বদলি কার্যক্রম অনেকটাই থমকে গেছে।

এ বিষয়ে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘বদলির ফল প্রকাশের জন্য আমরা প্রস্তুত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বদলির ফল প্রকাশ করা হবে।

user
user
Ad
Ad