সেপ্টেম্বার ১৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

শিক্ষককে  বাড়িতে ঢুকে গুলি

  • Views: 880
  • Share:
সেপ্টেম্বার ১৯, ২০২৬ ১২:৩৫ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক :: ফরিদপুরের সদরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রাতেই তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে শিক্ষক এমএ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দিন রহমানের ছেলে।

মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ২৬ শতাংশ জমি পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করি। কিন্তু ওই ব্যক্তি আমার ৪০ শতাংশ জমি বেশি দখল করে আছে। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ আছে। তারাই লোকজন নিয়ে এই হামলা করেছে।

স্থানীরা জানান, পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার ব্যবসায়ী মো. আলতাফ শেখের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে স্কুল শেষ করে নিজ মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফেরেন শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। বিকেল ৫টার দিকে ১৪ থেকে ১৫ জন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে মাথায় হেলমেট পরে তার বাড়িতে ঢোকে। এসব যুবকের কারও হাতে হকিস্টিক, কারও হাতে রামদা, চাপাতি ও কারও হাতে কাঠের লাঠি ছিল। পাশাপাশি একজন যুবকের কাছে একটি পিস্তলও ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত দলটি শিক্ষকের বাড়িতে ঢুকেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ডান পায়ে গুলি করে। এরপর শিক্ষক মোস্তাফিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মোস্তাফিজুরের বোন মোহসীনা আক্তার। তিনি নিজেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার ভাইকে গুলি করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসীরা স্কুল থেকেই আমার ভাইকে ফলো করে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বাড়িতে আসার পর ঘরের মধ্যে ঢুকে গুলি করেছে।

মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ২৬ শতাংশ জমি পাশের চরভদ্রাসন উপজেলার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করি। কিন্তু ওই ব্যক্তি আমার ৪০ শতাংশ জমি বেশি দখল করে আছে। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ আছে। তারাই লোকজন নিয়ে এই হামলা করেছে।


আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের ডান পায়ে গুলি করেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক পরিবারের সদস্যরা।

তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ (২৫) জানান, আমাদের দেখে পালাতে শিক্ষক মোস্তাফিজুর পড়ে যান এবং পায়ে ক্ষত হয়। তিনি বলেন, ‘তার পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল।’

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ‘ইনজুরি নোট’ এ চিকিৎসক লিখেছেন, মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলির ক্ষত রয়েছে। যার ফলে হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও তীব্র আঘাতের কারণে ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি হয়েছে। পাশাপাশি বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথাও রয়েছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেছেন, এ জাতীয় কোনো ঘটনা তার জানা নেই। কেউ এমন অভিযোগও তাদের থানায় করেনি।

user
user
Ad
Ad