সেপ্টেম্বার ১৩, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ছাড়া কোনো ‘অফ ডে’ রাখার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী

  • Views: 604
  • Share:
সেপ্টেম্বার ১২, ২০২৬ ১১:৫৭ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক :: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো ‘অফ ডে’ রাখা যাবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির সচেতনতামূলক প্রচার ও উপকরণ বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালীন কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকেল ৪টার আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতে পারবেন না। শিক্ষকরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অনেক সময় দুপুরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত নেই। তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, শিক্ষক নেই। শিক্ষকই যদি প্রতিষ্ঠানে না থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা সেখানে থাকবে কীভাবে—প্রশ্ন রাখেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটি ভোগের কোনো বিধান ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে একটি অনিয়মের চর্চা তৈরি হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরকারি ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না।’ ক্লাস শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষকের পাঠদান-সংক্রান্ত দায়িত্ব না থাকলেও প্রয়োজনে তাঁকে প্রশাসনিক বা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কাজে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারাও সরকারি ছুটির বাইরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকদেরও একইভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ত্রাণমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এটি চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর ও সফল হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিকসহ জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

user
user
Ad
Ad