সেপ্টেম্বার ১৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

 প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জিপিএফের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

  • Views: 129
  • Share:
সেপ্টেম্বার ১৯, ২০২৬ ১১:০৫ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার জন সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই জন সাবেক অডিটরসহ মোট ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার জন সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই জন সাবেক অডিটরসহ মোট ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, মোরেলগঞ্জের কয়েকজন প্রাথমিক শিক্ষক জিপিএফ তহবিল থেকে ঋণ নিতে আবেদন করলে তাদের হিসাবে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর মোরেলগঞ্জের উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী হিসাবের সঠিকতা যাচাইয়ে খুলনার ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি পাঠান।

পরবর্তীতে ডিসিএ কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দীর্ঘ তদন্তে সাবেক চার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরের বিরুদ্ধে জিপিএফ তহবিল থেকে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

যাচাই কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মীর এনামুল হক অনলাইন সিস্টেমে নিজ ইউজার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ৫২টি অগ্রিম বিলের বিপরীতে জিপিএফ থেকে একাই হাতিয়ে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা। সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সৌমেন সরকার একই কায়দায় তিনটি জিপিএফ অগ্রিম বিলের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতি করেছেন। সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মদন কুমার দাস পাঁচটি জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ১২ লাখ ৮৫ টাকা জালিয়াতি করেছেন। সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতি করেছেন। সহযোগী হিসেবে অডিটর শ্যামল কুমার দাস ২০২২-২০২৩ থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে মোট ৬৫টি ভুয়া বিল তৈরি করে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা জালিয়াতি করেছেন। অডিটর রুবেল মোল্লা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফ জালিয়াতি করেন।

এ ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার তন্ময় গোস্বামী জানান, তিনি এই অফিসে যোগদান করার পরে এ ঘটনা ধরা পড়েছে। এত বড় অঙ্কের টাকা তছরুপ হওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন। এ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ায় নিজের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন তিনি।

user
user
Ad
Ad