অক্টোবার ১৫, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

প্রাথমিকের শিক্ষক প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা

  • Views: 553
  • Share:
অক্টোবার ১৪, ২০২৬ ২০:৫১ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক :: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণব্যবস্থার মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ছয় গুণ বাড়িয়ে বছরে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার এবং বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের ওপর সরকারি তদারকিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতিতে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রস্তাবিত কাঠামোয় শিক্ষকেরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাস আবাসিক বা ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ নেবেন। এরপর বিদ্যালয়ে ফিরে পাঠদানের পাশাপাশি নির্ধারিত সিলেবাস ও মডিউল অনুসারে বাকি প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করবেন। পুরো প্রক্রিয়া আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজও চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা এই মডিউল অনুসারে প্রশিক্ষণ নেবেন। এর আওতায় প্রথম দুই মাস পিটিআইতে প্রশিক্ষণের পর তাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করবেন। পরবর্তী ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।

বর্তমানে পিটিআইগুলোতে বছরে প্রায় সাত হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগকেও এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্মত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি — কোনো শিক্ষক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ক্লাসরুমে স্থায়ীভাবে পাঠদানে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে দুপুরের খাবার কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় ‘মিড-ডে মিল’ চালু আছে। অন্য উপজেলাগুলোতেও কর্মসূচি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। বাকি উপজেলায় এই কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি— আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দেওয়া নয়; বরং শ্রেণিকক্ষের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, ‘গুগলসহ বৈশ্বিক বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আমরা ক্লাসরুমের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করছি। এর মূল কানেক্টর হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছানো হবে।’

বিদ্যুৎবিহীন দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

দেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার অপেক্ষা চলছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রমের আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষা। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাথে এ বিষয়ে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রায়ের চূড়ান্ত কপি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুল পরিমাণ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে।’

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমিয়ে শেখার পরিবেশ আনন্দদায়ক করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমানো, গল্পের মাধ্যমে পাঠদান এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অসুবিধা কমাতে আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও সরকারের নীতিগত ভাবনায় রয়েছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।

user
user
Ad
Ad