জুলাই ১৯, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

সরকারি স্কুল চলছে এক শিক্ষক দিয়ে

  • Views: 127
  • Share:
জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৩:১১ Asia/Dhaka

টিবিসি ডেস্ক :: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের পাঁচটি পদের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, আর ক্রমাগত কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়টিতে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তিনি একাধারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, আবার অন্য দিকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব কটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের একা হাতেই সামলাচ্ছেন। দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য তাকে প্রায়শই ব্যস্ত থাকতে হয়, যার ফলে নিয়মিত পাঠদান করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে এই অচলাবস্থা চলায় শিক্ষার্থীরা মারাত্মক শিখনঘাটতিতে পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে, আর যারা আসছে তারাও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।

সরকারি এই বিদ্যালয়ে এখন ৭০ শিক্ষার্থী পড়ছে। তাদের মধ্যে প্রাক্-প্রাথমিকে ১৭ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১১, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১১, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০, চতুর্থ শ্রেণিতে ১০ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কিছু শিক্ষার্থী খেলাধুলা করছে। একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে পড়ার শব্দ ভেসে আসছিল। সেখানে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি মিলে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী হাজির ছিল। তাদের সবাইকে একসঙ্গে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন প্রধান শিক্ষক আবদুল মমিন। বিদ্যালয়ের একতলা পাকা ভবনে দুটি শ্রেণিকক্ষ এবং টিনশেড ঘরে দুটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল মমিন। তিনি জানান, তার যোগদানের সময় বিদ্যালয়ে আরও তিনজন সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পর্যায়ক্রমে তারা অবসরে চলে যান। পরে মৌখিকভাবে একজন শিক্ষক দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তিনিও অবসরে চলে যান। এর পর থেকে তিনি একাই বিদ্যালয়টি সামলাচ্ছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মমিন বলেন, প্রায়ই তাকে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে যেতে হতো। তবে এখন ক্লাস শেষ করে বিভিন্ন সময়ে দাপ্তরিক কাজ করে থাকেন। শিক্ষক না থাকায় অভিভাবকেরা সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে চান না। মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর ৯ জুলাই সাময়িকভাবে পাশের একটি বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে মৌখিকভাবে পাঠদান করতে বলেছে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। তবে এখনো কাউকে পদায়ন করা হয়নি বলে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এখানে শিক্ষকেরা আসতে চান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, কাঁচা রাস্তায় চলাচলের জন্য সব সময় যানবাহন পাওয়া যায় না। উপজেলা সদরে যাতায়াতে মোটরসাইকেলই একমাত্র ভরসা। তবে বৃষ্টি হলে কাঁচা রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানোও কষ্টকর হয়ে যায়।

ছয়–সাত বছর আগে এই বিদ্যালয়ে প্রায় ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও শিক্ষক-সংকটের কারণে কমতে কমতে এখন ৭০ জনে এসেছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় সামনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সবচেয়ে কাছের বিদ্যালয়টিও সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাদারগঞ্জে ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষকের পদ আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৮ জন শিক্ষক কর্মরত। বাকি ১৪৮টি পদ শূন্য।

এ বিষয়ে জামালপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ার ফলে সেখানে শিক্ষকেরা যেতে চান না। এ ছাড়া শিক্ষক–সংকটও রয়েছে। তবে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি জেনে গত সপ্তাহে একজন শিক্ষককে পাঠদান করতে বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই বিদ্যালয়ে আরও শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

user
user
Ad
Ad