এপ্রিল ২৩, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

+৮৮০১৭৪৪-২২১৩৮৫

বার্ষিক পরীক্ষার আগে শিক্ষকদের আন্দোলনে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

  • Views: 2761
  • Share:
নভেম্বার ২৬, ২০২৫ ১২:১৪ Asia/Dhaka

দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে, তিন দফা দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এতে কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে বার্ষিক পরীক্ষার আগ মুহূর্তে শিক্ষকদের আন্দোলনে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাহত হচ্ছে।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করেন শিক্ষকরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে সচিবালয়ের গেটের সামনেই অবস্থান নেন তারা।

বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষদের অভিযোগ, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়। পরে বিভিন্ন ধাপে অনেক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও ২৫ মে, ২০১৯ তারিখের আগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো এখনো জাতীয়করণের বাইরে রয়েছে।

এদিকে, ১১তম গ্রেডে বেতনসহ উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে মঙ্গলবার থেকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

১২টি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চা 'প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের' ব্যানারে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। মোর্চাভুক্ত সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল আমিন বলেন, সহকারী শিক্ষক এন্ট্রি পদে বেতন ১১তম গ্রেড নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা চেয়ে আমরা সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় রোববার ও সোমবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছি। মঙ্গলবার থেকে আমাদের তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে 'প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে গত ৮ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা।

'কলম বিরতি কর্মসূচি' পালনকালে সেদিন বিকালে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শাহবাগ থানার সামনে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার, কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে তাদের শহীদ মিনারে ফেরত পাঠায়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা।

পরে গত ১০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তখন সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।

এর আগে, গত ৩০ আগস্ট দিনভর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করার পর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে 'আমরণ অনশন' কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। দুর্গাপূজার কারণে অনশন কর্মসূচি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে গত ১৬ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার পর শিক্ষকরা অনশন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। পরে সরকারের আশ্বাসে সেই কর্মসূচিও স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, গত ১৮ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের রায় পোদ্দার জানান, ত্রয়োদশ গ্রেডে বেতন পাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।

user
user
Ad
Ad