নভেম্বার ৩, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পটুয়াখালীতে শিক্ষক-শ্রেণিকক্ষ ছাড়াই চলছে কলেজ, এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য

নভেম্বার ৩, ২০২৬ ২১:৫৩ Asia/Dhaka
  • Views: 3
  • Share:

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিপিসি (বোয়ালিয়া, পক্ষিয়া ও চরখালী) মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখায় নেই কোনো শিক্ষক-কর্মচারী, নেই আলাদা শ্রেণিকক্ষ। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে শিক্ষার্থী। নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় প্রতিবছরই এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে হতাশাজনক চিত্র।

চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে কলেজ শাখাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস করা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন শরিফুল সিকদার ও মো. আকতার হোসেন। তবে দুজনই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে পাসের হার শূন্য। এর আগের বছর ২০২৫ সালে চারজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন একজন। ২০২৪ সালে প্রথমবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালে বিপিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার অনুমোদন পাওয়ার পর ‘বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে উচ্চমাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছর থেকেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই কলেজ শাখায় প্রয়োজনীয় শিক্ষক, কর্মচারী ও অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির একাদশ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি রয়েছে মাত্র তিনজন। তাদেরও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কলেজ শাখার শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক-কর্মচারী নেই। আলাদা শ্রেণিকক্ষও নেই। দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রাম পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী শহরের ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এখানে ভর্তি হয়। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন শ্রমের কাজে যুক্ত থাকায় পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কম। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ না থাকায় নিয়মিত পাঠদানও সম্ভব হচ্ছে না।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, শূন্য পাসের হারের কারণে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে তাদের ডাকা হয়েছে। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, জনবল না থাকায় তা মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকবে না। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এ অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, এমপিওভুক্তির আগে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করে কলেজ পরিচালনার অনুমতি পায়নি এবং  সুযোগও নেই। আবার খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতন দেওয়ার মতো অর্থের সংস্থানও প্রতিষ্ঠানের নেই। এমনকি বিদ্যালয় শাখাতেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কলেজটি সচল রাখা এবং শিক্ষক নিয়োগ জরুরি।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডেকেছেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকলে সেটির ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে কলেজটির সংকট সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

user
user
Ad
Ad