নভেম্বার ৮, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অম্ল মাটিতে চাষ উপযোগী উচ্চ ফলনশীল সরিষার জাত 'সিকৃবি সরিষা-১' উদ্ভাবন

নভেম্বার ৭, ২০২৬ ২২:৪০ Asia/Dhaka
  • Views: 2380
  • Share:
ফলনশীল সরিষার জাত 'সিকৃবি সরিষা-১'

দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ ও প্রতিকূল পরিবেশে কৃষির বিস্তার ঘটাতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. দিলারা আক্তারের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী বাংলাদেশের প্রতিকূল পরিবেশে উচ্চ ফলনশীল সরিষার জাত 'সিকৃবি সরিষা-১' উদ্ভাবন করেন।

জাতীয় বীজ বোর্ড গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভায় জাতটিকে অনুমোদন ও নিবন্ধন দিয়েছে (নিবন্ধন নম্বর: ০০(০৫)-৪৯/২৬) এবং সমগ্র বাংলাদেশে চাষাবাদের জন্য সুপারিশ করেছে। দীর্ঘ চার মৌসুম ধরে টানা গবেষণার পর এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন জাতের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
গবেষকদের দেওয়া তথ্য ও জাতীয় বীজ বোর্ডের নিবন্ধনপত্র অনুযায়ী, 'সিকৃবি সরিষা-১' (বোটানিক্যাল নাম: Brassica napus L.) ইনব্রিড জাতের একটি উচ্চফলনশীল রবি শস্য। বর্তমানে দেশে চাষ হওয়া জাতগুলোর মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি ফলনশীল। প্রতি হেক্টরে এর গড় ফলন ১.৫ মেট্রিক টন। জাতটিতে আয়-ব্যয়ের অনুপাত (বিসিআর) ৫:১। অর্থাৎ, চাষে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে কৃষকের লাভের সুযোগ ৫ টাকা। এটি হাওর অঞ্চলের অম্লীয় মাটিতে অনায়াসে চাষ করা সম্ভব।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য: 
রবি মৌসুমে (শেষ অক্টোবর থেকে শেষ ফেব্রুয়ারি) চাষ উপযোগী এই জাতের ফসল তুলতে ১১৫ থেকে ১২৫ দিন সময় লাগে। ২০০-২৩০ সেমি লম্বা এ গাছের ফুল উজ্জ্বল হলুদ ও বীজের খোসা লালচে হয়। ১,০০০ বীজের ওজন ৩.৫ থেকে ৩.৯ গ্রাম। এতে তেলের পরিমাণ ৪২-৪৪% এবং ক্ষতিকর ইরুসিক অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকায় তা অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত। এটি অল্টারনারিয়া পাতা ঝলসানো রোগ মাঝারি মাত্রায় প্রতিরোধ করে এবং জাবপোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়।


উদ্ভাবক দলের প্রধান ও সিকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. দিলারা আক্তার বলেন, "আমাদের দেশকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। সিলেট অঞ্চল এবং হাওর এলাকার অম্লীয় মাটির অনাবাদী জমিতে 'সিকৃবি সরিষা-১' চাষ করে সেই শূন্যতা পূরণ সম্ভব। এই নতুন জাত থেকে কৃষক যেমন অধিক লাভবান হবেন, তেমনি দেশ স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল উৎপাদনে আরও এক ধাপ স্বাবলম্বী হবে। জাতটি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।"

গবেষকরা মনে করছেন, সহজ চাষপদ্ধতি (সারিতে বপনে হেক্টরে ১.৮ কেজি বীজ ও ১২ সেমি ১২ সেমি দূরত্ব) এবং দুটি সেচেই নিশ্চিত ফলন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় 'সিকৃবি সরিষা-১' খুব দ্রুতই সারা দেশের কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।


এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ সফি উল্লাহ মজুমদার বলেন, "সিকৃবি সরিষা-১' আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক অনন্য অর্জন। দেশীয় কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে এবং প্রতিকূল পরিবেশের জমি, বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের জমিতে চাষাবাদ ফিরিয়ে আনতে এই জাতটি মুখ্য ভূমিকা রাখবে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের যে মূল দায়িত্ব-দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা, সিকৃবির বিজ্ঞানীরা তা প্রমাণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই উদ্ভাবনকে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।"

user
user
Ad
Ad