নভেম্বার ৭, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শাবিপ্রবিতে সিসিক প্রশাসক

সকলের কাছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে

নভেম্বার ৭, ২০২৬ ১৪:৫১ Asia/Dhaka
  • Views: 2725
  • Share:
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ হয়নি। ফলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যায় সম্পর্কে তরুণদের জানাশোনায় ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির কাছে এসব ইতিহাস ধারণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম,  আলোচনা সভার সভাপতি গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন,  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরাদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভায় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসানের পর তিনি সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এমনকি এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগও পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পায়। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, একজন সেক্টর ও ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে সম্মুখসমরেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে। এমসি কলেজ এলাকাতেও সংঘটিত যুদ্ধে বহু মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার একপর্যায়ে জিয়াউর রহমানকে বন্দি রাখা হয়েছিল। সেনাবাহিনীতেও তখন চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এ ঘটনা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন।

আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

user
user
Ad
Ad