নভেম্বার ৫, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তেই আটকা শাবিপ্রবির টিএসসি, বাস্তবায়ন হয়নি সাড়ে তিন দশকেও

দ্রুত প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা
নভেম্বার ৫, ২০২৬ ২০:৫৬ Asia/Dhaka
  • Views: 4527
  • Share:
শাবিপ্রবি গেইট

প্রতিষ্ঠার পর সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাস্তবায়িত হয়নি কাঙ্ক্ষিত টিচার্স-স্টুডেন্ট সেন্টার (টিএসসি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মহাপরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ডিজাইন ও আয়তন নির্ধারণ করে টিএসসি নির্মাণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

ফলে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এক ছাদের নিচে সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক চর্চার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মহাপরিকল্পনা (১৯৮৫-২০১৫) নথিপত্র ঘেটে দেখা যায়, ১৯৯২ সালের ৭ ও ৯ মে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে শাবিপ্রবির ৮ নম্বর মহাপরিকল্পনায় একটি পূর্ণাঙ্গ ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এবং একটি কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম নির্মাণের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি চারতলা বিশিষ্ট ভবনে টিএসসি প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। যেখানে থাকবে একটি আধুনিক সেমিনার রুম, ছোট মিলনায়তন, সমৃদ্ধ ক্যাফেটারিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) কার্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য পৃথক রিহার্সেল রুম।


তবে বিশ্ববিদ্যালয় মহাপরিকল্পনার প্রায় সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও মাস্টারপ্ল্যান ফাইলেই বন্দি রয়ে গেছে। টিএসসি না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজনখানেক সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে খোলা আকাশের নিচে বা ভবনের বারান্দায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। 

তৎকালীন সময়ে অনেকবার শিক্ষার্থীরা টিএসসি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে দাবি তুললেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে দ্রুতই টিএসসি প্রতিষ্ঠার জন্য দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরাও। 

এ বিষয়ে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব রিয়াজ হোসেন রিমন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ টিএসসি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, টিএসসি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা থাকলেও প্রশাসনের অনাগ্রহের ফলে আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ টিএসসি প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।"


শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা না। এখানে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আসে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সাথে আচার-আচরণ, কালচার ইত্যাদি আদান-প্রদান বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক জায়গা। টিএসসি এই কাজের জন্য অন্যতম জায়গা। কিন্তু দু:খজনকভাবে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পর্যন্ত টিএসসি স্থাপন করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের কো-কারিকুলার বিভিন্ন এক্টিভিটিজে অংশগ্রহণের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই ক্যাম্পাসে সকলের জন্য টিএসসি প্রতিষ্ঠা করা দরকার।"


টিএসসির দাবি জানিয়ে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, "একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণস্পন্দন হলো টিএসসি। টিএসসির মাধ্যমে ছাত্রশিক্ষকের একটি মেলবন্ধন তৈরি হয়। আর শাবিপ্রবি দেশের অন্যতম একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই এখানে টিএসসি প্রতিষ্ঠা জরুরি।" 

টিএসসি প্রতিষ্ঠা করে সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দেরও দাবি জানান তিনি। 

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি থাকা দরকার। তবে চাইলেও কোনোকিছু হুটহাট করা যায় না। আমি জয়েন করেছি মাত্র কয়েকমাস হলো। তবে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।" 

user
user
Ad
Ad